11:40 am, Thursday, 15 January 2026

পূর্বের ছকে জঙ্গি আতঙ্ক; না-কি আধিপত্যবাদের নয়া কৌশল?

এম রাসেল সরকার

Picsart 25 12 28 12 26 54 178

 

মতামত:
বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গি’ কার্ড বা তকমা ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী এই সময়কালের তথ্যের উল্লেখযোগ্য দিক থেকে দেখা যায় যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে তরুণ ও ইসলামী ভাবধারার অনুসারীদের দমনে ‘জঙ্গি’ বা ‘উগ্রবাদী’ তকমা একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নকে বৈধতা দিতে এই বয়ান প্রচার করা হতো যে, সরকার উগ্রবাদ নির্মূলে কাজ করছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International এবং Human Rights Watch তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে যে, জঙ্গি দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের হদিস পাওয়া যায়নি অথবা পরে লাশ পাওয়া যায়।

গণ-অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে তৎকালীন সময়ে ‘আয়নাঘর’ বা গোপন ডিটেনশন সেন্টারের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে আনলে মূল ঘটনা কি ঘটেছে তা ভালো করে বুঝা যায়। বিএনপি-জামাত সহ ভিন্নমতাবলম্বী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘ সময় এসব স্থানে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। যার ফলে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির সমর্থন বজায় রাখতে জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল সহ এবং বাকস্বাধীনতা চরমভাবে সংকুচিত হয়।

এই অপকৌশলের প্রধান শিকার হয়েছে হাজার হাজার মেধাবী ও তরুণ সমাজ। কেবলমাত্র বিএনপি-জামাত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের কারণে অনেককে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে তাদের ক্যারিয়ার ও জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই চরমপন্থী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থানের এই সূচনা হয়েছিলো রক্তাক্ত এক বিপ্লবের। অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যের প্রতিবাদী শক্তি উপড়ে ফেলেছিল চরম ফ্যাসিবাদী শাসনের মসনদ।

প্রবল গণ-অভ্যুত্থানে স্বাধীন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো শাসক বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের ঝড় এলোমেলো করে দেয় দেশের রাজনীতির মাঠ। ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাতের এই আন্দোলনে জীবন দিতে হয়েছে হাজারো মানুষকে। কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর বেপরোয়া বুলেটে আহত হন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আওয়ামী লীগের পোষ্য ক্যাডার বাহিনীর আক্রমণেও হতাহত হয়েছেন অনেকে। জুলাই-আগস্টের এই গণ- অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শহীদ ও আহতদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয়।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো শুরু হলে আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগ যখন ভারতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার শুরু করে, তখন ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ সন্ত্রাসীদের বিতর্ক রহস্যময় আচরণে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির চরম অবমাননা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে নতুন এক রক্তাক্ত অধ্যায়—ছাত্রনেতা শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাত;

শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বত্রন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদী এবং এ লক্ষ্যে নিয়মিত গণসংযোগ করছিলেন তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদীর মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে যে, হত্যাকারীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চসহ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা এবং আসামিদের সুরক্ষা প্রদান উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা -র-ইসকন যোগসূত্র রয়েছে। একজন দণ্ডিত স্বৈরাচারী শাসক এবং বিপ্লবী তরুণ ছাত্র নেতার ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদরা দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের যে দেয়াল তৈরি করছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের মতে, খুনিদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ভারত বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি তবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত? মৃত্যুদণ্ড প্রদান আসামি শেখ হাসিনা ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর ঘাতকদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাংলার জনগণের মনে ভারতের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন হওয়া প্রায় অসম্ভব।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতায় একটি বিষয় লক্ষ করলে বুঝতে বাকি থাকে না, যখনই ভারতবিরোধীতা জনমত গড়ে ওঠে, তখনই তথাকথিত ‘জঙ্গি নাটকের’ পুরোনো স্ক্রিপ্ট রেডি করা হয়। যা দীর্ঘ দেড় জোগ ধরে এই সুনির্দিষ্ট অপকৌশল ব্যবহার করে ভারতীয় গুপ্ত বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী নিরপরাধ তরুণ-তরুণীর জীবন কে তছনছ করা হয়। ফ্যাসিবাদী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির পতনের পর হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়াবহ কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে সাজানো নাটকগুলোর ক্রমেই উন্মোচিত হয়েছে। ভারতীয় কালো অধ্যায়ের এই সুকৌশলী ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি অকুতোভয় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদী।

বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদী যখন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তখনই পরিকল্পিতভাবে ভারতীয় গুপ্ত বাহিনী তাঁর জীবন কেড়ে নেয়। “হাদী জীবিত থাকাকালে বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর ওপর হামলা হতে পারে। তিনি দেশবাসীকে বলে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যু বা তাঁর ওপর গুলি চালানো হলে যেন হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।” তাঁর এই দূরদর্শী আশঙ্কা প্রমাণ করে যে, এই দেশে যারা ভারতীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদেরই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী থেকে শুরু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ—কেউই এই আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রেহাই পাননি।

নতুনভাবে পুনরায় তৈরি করা হয় জঙ্গি নাটকীয় চিত্র;

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায়েরকৃত এবং দীপু দাস নাটকীয় মামলার আসামিদের কে অদৃশ্য শক্তিতে আটক করার দ্রুত সম্ভব হলেও শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদেরকে ধরতে বিশাল এক জ্যামে আটকে আছে হরিদাস প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় কথিত বিস্ফোরণের ঘটনাটিও চরম রহস্যজনক; বিস্ফোরণে ভবন উড়ে যাওয়ার দাবি করা হলেও ভবনের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার, রঙের ডিব্বা, প্লাস্টিকের বালতি, কাঠের বেঞ্চ, এমনকি র‍্যাকের ওপর থাকা জিনিসপত্রও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা সেই পূর্বের নাটকীয় চরিত্রে রূপান্তরিত স্পষ্টতই একটি সাজানো নাটকের ইঙ্গিত দেয়।

একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনপূর্ব প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শাহবাগ যখন উত্তাল। ঠিক সেই মুহূর্তে মিডিয়াতে সেই পূর্বের ফ্যাসিস্ট শক্তির কায়দায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন ভাবে ইস্যু তৈরি করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের অনমনীয় অবস্থানের কথা। তরুণ প্রজন্মের শক্তি শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মতো তরুণ নেতৃত্বের অকাল মৃত্যু এবং এর পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-র-এর শক্তির সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা নিরসনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশকে নিয়ে ‘অস্থিতিশীল’ বা ‘মৌলবাদী’ রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রায়িত করার যে নীল-নকশার যুদ্ধে নেমেছে, তাতে তাদের মূল ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এই ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ কতটুকু অশান্ত ও মানবাধিকার লংকনকারী।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কে অস্থিরশীল করার জন্য হিন্দুসম্প্রদায়ের দীপু দাস নামে এক ব্যক্তির নাটকীয় চিত্রের মধ্যে দিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া গুলোতে যেভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে এই প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ সন্ত্রাসীদের নীল-নকশার মিশন বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রমাণের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পূর্বের ফ্যাসিস্ট শক্তির ছকের নিয়ম ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে প্রশাসনিক উন্নত মানবিকতা বিবর্জিত মস্তিষ্কে এবং রাজনৈতিক পটভূমিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আরও শক্তিশালী ও মানবাধিকার সূচনায় অগ্রবর্তী ভূমিকায় আচরণ করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। যদি ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের উস্কানিতে পূর্বের ছকের নিয়মে নতুনভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা দাড়ি-টুপিওয়ালা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ গ্রহণে মরিয়া হয়ে উঠে তাহলে সেটা হবে চরম ক্ষতিকর ও ভয়ঙ্কর রূপ। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকা আবশ্যক এবং তা প্রচলিত আইন মেনেই হওয়া উচিত। ঢালাওভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা বা সন্দেহ পোষণ করা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আইন ও মানবাধিকার চিন্তাবীদরা।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সময়ে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানি যাতে না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।

মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এক দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। এই পথে সকলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় দেশের মৌলিক নীতি ও অর্জনগুলো নষ্ট না হয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান সুরক্ষিত রাখা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখা—এটাই হোক নতুন বাংলাদেশের পথচলার মূলমন্ত্র।

লেখক:
এম রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।
[তারিখ-২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং]
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Update Time : 06:20:26 am, Sunday, 28 December 2025
82 Time View

পূর্বের ছকে জঙ্গি আতঙ্ক; না-কি আধিপত্যবাদের নয়া কৌশল?

Update Time : 06:20:26 am, Sunday, 28 December 2025

 

মতামত:
বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গি’ কার্ড বা তকমা ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী এই সময়কালের তথ্যের উল্লেখযোগ্য দিক থেকে দেখা যায় যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে তরুণ ও ইসলামী ভাবধারার অনুসারীদের দমনে ‘জঙ্গি’ বা ‘উগ্রবাদী’ তকমা একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নকে বৈধতা দিতে এই বয়ান প্রচার করা হতো যে, সরকার উগ্রবাদ নির্মূলে কাজ করছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International এবং Human Rights Watch তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে যে, জঙ্গি দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের হদিস পাওয়া যায়নি অথবা পরে লাশ পাওয়া যায়।

গণ-অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে তৎকালীন সময়ে ‘আয়নাঘর’ বা গোপন ডিটেনশন সেন্টারের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে আনলে মূল ঘটনা কি ঘটেছে তা ভালো করে বুঝা যায়। বিএনপি-জামাত সহ ভিন্নমতাবলম্বী তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘ সময় এসব স্থানে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। যার ফলে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির সমর্থন বজায় রাখতে জঙ্গিবাদের ভয় দেখিয়ে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল সহ এবং বাকস্বাধীনতা চরমভাবে সংকুচিত হয়।

এই অপকৌশলের প্রধান শিকার হয়েছে হাজার হাজার মেধাবী ও তরুণ সমাজ। কেবলমাত্র বিএনপি-জামাত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের কারণে অনেককে ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে তাদের ক্যারিয়ার ও জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই চরমপন্থী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থানের এই সূচনা হয়েছিলো রক্তাক্ত এক বিপ্লবের। অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যের প্রতিবাদী শক্তি উপড়ে ফেলেছিল চরম ফ্যাসিবাদী শাসনের মসনদ।

প্রবল গণ-অভ্যুত্থানে স্বাধীন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো শাসক বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের ঝড় এলোমেলো করে দেয় দেশের রাজনীতির মাঠ। ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাতের এই আন্দোলনে জীবন দিতে হয়েছে হাজারো মানুষকে। কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর বেপরোয়া বুলেটে আহত হন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আওয়ামী লীগের পোষ্য ক্যাডার বাহিনীর আক্রমণেও হতাহত হয়েছেন অনেকে। জুলাই-আগস্টের এই গণ- অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শহীদ ও আহতদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয়।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো শুরু হলে আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগ যখন ভারতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার শুরু করে, তখন ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ সন্ত্রাসীদের বিতর্ক রহস্যময় আচরণে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির চরম অবমাননা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে নতুন এক রক্তাক্ত অধ্যায়—ছাত্রনেতা শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাত;

শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বত্রন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদী এবং এ লক্ষ্যে নিয়মিত গণসংযোগ করছিলেন তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদীর মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে যে, হত্যাকারীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চসহ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা এবং আসামিদের সুরক্ষা প্রদান উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা -র-ইসকন যোগসূত্র রয়েছে। একজন দণ্ডিত স্বৈরাচারী শাসক এবং বিপ্লবী তরুণ ছাত্র নেতার ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদরা দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের যে দেয়াল তৈরি করছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের মতে, খুনিদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ভারত বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি তবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত? মৃত্যুদণ্ড প্রদান আসামি শেখ হাসিনা ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর ঘাতকদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাংলার জনগণের মনে ভারতের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন হওয়া প্রায় অসম্ভব।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতায় একটি বিষয় লক্ষ করলে বুঝতে বাকি থাকে না, যখনই ভারতবিরোধীতা জনমত গড়ে ওঠে, তখনই তথাকথিত ‘জঙ্গি নাটকের’ পুরোনো স্ক্রিপ্ট রেডি করা হয়। যা দীর্ঘ দেড় জোগ ধরে এই সুনির্দিষ্ট অপকৌশল ব্যবহার করে ভারতীয় গুপ্ত বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী নিরপরাধ তরুণ-তরুণীর জীবন কে তছনছ করা হয়। ফ্যাসিবাদী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির পতনের পর হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়াবহ কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে সাজানো নাটকগুলোর ক্রমেই উন্মোচিত হয়েছে। ভারতীয় কালো অধ্যায়ের এই সুকৌশলী ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি অকুতোভয় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদী।

বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদী যখন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তখনই পরিকল্পিতভাবে ভারতীয় গুপ্ত বাহিনী তাঁর জীবন কেড়ে নেয়। “হাদী জীবিত থাকাকালে বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাঁর ওপর হামলা হতে পারে। তিনি দেশবাসীকে বলে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যু বা তাঁর ওপর গুলি চালানো হলে যেন হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।” তাঁর এই দূরদর্শী আশঙ্কা প্রমাণ করে যে, এই দেশে যারা ভারতীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাদেরই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী থেকে শুরু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ—কেউই এই আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রেহাই পাননি।

নতুনভাবে পুনরায় তৈরি করা হয় জঙ্গি নাটকীয় চিত্র;

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায়েরকৃত এবং দীপু দাস নাটকীয় মামলার আসামিদের কে অদৃশ্য শক্তিতে আটক করার দ্রুত সম্ভব হলেও শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদেরকে ধরতে বিশাল এক জ্যামে আটকে আছে হরিদাস প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় কথিত বিস্ফোরণের ঘটনাটিও চরম রহস্যজনক; বিস্ফোরণে ভবন উড়ে যাওয়ার দাবি করা হলেও ভবনের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার, রঙের ডিব্বা, প্লাস্টিকের বালতি, কাঠের বেঞ্চ, এমনকি র‍্যাকের ওপর থাকা জিনিসপত্রও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা সেই পূর্বের নাটকীয় চরিত্রে রূপান্তরিত স্পষ্টতই একটি সাজানো নাটকের ইঙ্গিত দেয়।

একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনপূর্ব প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শাহবাগ যখন উত্তাল। ঠিক সেই মুহূর্তে মিডিয়াতে সেই পূর্বের ফ্যাসিস্ট শক্তির কায়দায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন ভাবে ইস্যু তৈরি করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের অনমনীয় অবস্থানের কথা। তরুণ প্রজন্মের শক্তি শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর মতো তরুণ নেতৃত্বের অকাল মৃত্যু এবং এর পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-র-এর শক্তির সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা নিরসনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশকে নিয়ে ‘অস্থিতিশীল’ বা ‘মৌলবাদী’ রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রায়িত করার যে নীল-নকশার যুদ্ধে নেমেছে, তাতে তাদের মূল ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এই ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ কতটুকু অশান্ত ও মানবাধিকার লংকনকারী।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কে অস্থিরশীল করার জন্য হিন্দুসম্প্রদায়ের দীপু দাস নামে এক ব্যক্তির নাটকীয় চিত্রের মধ্যে দিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া গুলোতে যেভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে এই প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদ সন্ত্রাসীদের নীল-নকশার মিশন বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রমাণের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পূর্বের ফ্যাসিস্ট শক্তির ছকের নিয়ম ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে প্রশাসনিক উন্নত মানবিকতা বিবর্জিত মস্তিষ্কে এবং রাজনৈতিক পটভূমিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আরও শক্তিশালী ও মানবাধিকার সূচনায় অগ্রবর্তী ভূমিকায় আচরণ করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। যদি ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের উস্কানিতে পূর্বের ছকের নিয়মে নতুনভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা দাড়ি-টুপিওয়ালা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ গ্রহণে মরিয়া হয়ে উঠে তাহলে সেটা হবে চরম ক্ষতিকর ও ভয়ঙ্কর রূপ। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকা আবশ্যক এবং তা প্রচলিত আইন মেনেই হওয়া উচিত। ঢালাওভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা বা সন্দেহ পোষণ করা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আইন ও মানবাধিকার চিন্তাবীদরা।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সময়ে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানি যাতে না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য।

মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এক দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। এই পথে সকলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় দেশের মৌলিক নীতি ও অর্জনগুলো নষ্ট না হয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান সুরক্ষিত রাখা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখা—এটাই হোক নতুন বাংলাদেশের পথচলার মূলমন্ত্র।

লেখক:
এম রাসেল সরকার
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।
[তারিখ-২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং]