11:40 am, Thursday, 15 January 2026

লৌহজংয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

দিগন্ত প্রতিদিন

Picsart 25 12 24 17 52 37 370

 

মোঃ জাহিদ হাসান:
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয় ৮ নং ওয়ার্ড নওপাড়া গ্রামের মেয়ে ও খিদিরপাড়া ইউনিয়নের গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুললেও পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ধাইরপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্বামী আনোয়ারের বাড়ি থেকে মোসা. জান্নাত (২১) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মোসা. জান্নাতের বাবা, মা জানান দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে সাত মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে নাম-আয়েশা।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই জান্নাতের দাম্পত্য জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা। শ্বশুর-শাশুড়ি, দুই ননদ, এক জা ও ননদের স্বামীসহ একই বাড়িতে বসবাস করেন। পরিবারটির থেকে নিহতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, আনোয়ারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জানতে পারেন বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে আনোয়ারের পরকীয়া আছে এটা জেনে প্রথম স্ত্রী আনোয়ারকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। সেই তথ্য গোপন রেখে জান্নাতকে বিয়ে করে আনোয়ার। বিয়ের পর জান্নাত জানতে পারেন। স্বামী বিদেশে অবস্থান করলেও বড় ভাবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তার নামে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতেন। এসব বিষয় নিয়ে জান্নাত প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জান্নাত গর্ভবতী অবস্থায়ও নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে তার হাতে গরম চটার ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। যা দেন ননদ, এ বিষয় নিয়ে গ্রামে একটি বিচারও হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার দিন জান্নাতকে মৃত অবস্থায় অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ জান্নাতের মড়াদেহ একটি অটোতে করে শ্বশুর-শাশুড়ি তার বুকের উপর পা রেখে হসপিটালে নিয়ে আসে।

ঘটনার পর সাংবাদিক নিহতের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাইলে ননদের ছেলে ফোন ধরে বলেন, বাড়িতে কেউ নেই। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং উচ্চস্বরে হুমকিমূলক কথা বলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে জান্নাতের মরাদেহ ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। তবে আত্মহত্যার ঘটনায় যেখানে পুলিশ এসে মরদেহ নামানোর কথা।, সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনই মরদেহ নামান। এতে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা আরো বলেন গলায় ফাস দিলে গলায় দাগ পড়ে যাবে কিন্তু নিহতের গলায় কোনো দাগ নেই। তার চুল গুলো এলোমেলো তাকে যে মারা হয়েছে এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।

নিহতের বাবা ও স্বজনরা লৌহজং থানায় হাজির হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলে থানার ওসি মামলা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,কেনো? পুলিশ মামলা নিতে অনাগ্রহী,।

এ বিষয় লৌহজং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমরা অভিযোগ নিয়েছি কিন্তু তারা তো ৫/৬ জনকে আসামি করেছেন। এ বিষয়ে থানার তদন্ত জানান তারা মামলা দিতে আমাদের কাছে আসে নাই। বাদি না হলে আমরা মামলা নিবো কি করে? কিন্তু নিহতের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলতেছেন আমরা নিজেরাই কালকে নিহতের বাবার সাথে থানায় গেছি মামলা দিতে কিন্তু থানায় অসি ছিলো না তদন্ত অফিসার বলছেন ময়নাতদন্ত ছারা আমরা মামলা লিখতে পারবো না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Update Time : 11:52:54 am, Wednesday, 24 December 2025
114 Time View

লৌহজংয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Update Time : 11:52:54 am, Wednesday, 24 December 2025

 

মোঃ জাহিদ হাসান:
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয় ৮ নং ওয়ার্ড নওপাড়া গ্রামের মেয়ে ও খিদিরপাড়া ইউনিয়নের গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুললেও পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ধাইরপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্বামী আনোয়ারের বাড়ি থেকে মোসা. জান্নাত (২১) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মোসা. জান্নাতের বাবা, মা জানান দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে সাত মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে নাম-আয়েশা।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই জান্নাতের দাম্পত্য জীবন ছিল অশান্তিতে ভরা। শ্বশুর-শাশুড়ি, দুই ননদ, এক জা ও ননদের স্বামীসহ একই বাড়িতে বসবাস করেন। পরিবারটির থেকে নিহতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, আনোয়ারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জানতে পারেন বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে আনোয়ারের পরকীয়া আছে এটা জেনে প্রথম স্ত্রী আনোয়ারকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। সেই তথ্য গোপন রেখে জান্নাতকে বিয়ে করে আনোয়ার। বিয়ের পর জান্নাত জানতে পারেন। স্বামী বিদেশে অবস্থান করলেও বড় ভাবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তার নামে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতেন। এসব বিষয় নিয়ে জান্নাত প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জান্নাত গর্ভবতী অবস্থায়ও নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে তার হাতে গরম চটার ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। যা দেন ননদ, এ বিষয় নিয়ে গ্রামে একটি বিচারও হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার দিন জান্নাতকে মৃত অবস্থায় অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ জান্নাতের মড়াদেহ একটি অটোতে করে শ্বশুর-শাশুড়ি তার বুকের উপর পা রেখে হসপিটালে নিয়ে আসে।

ঘটনার পর সাংবাদিক নিহতের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাইলে ননদের ছেলে ফোন ধরে বলেন, বাড়িতে কেউ নেই। একপর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং উচ্চস্বরে হুমকিমূলক কথা বলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে জান্নাতের মরাদেহ ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। তবে আত্মহত্যার ঘটনায় যেখানে পুলিশ এসে মরদেহ নামানোর কথা।, সেখানে শ্বশুরবাড়ির লোকজনই মরদেহ নামান। এতে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা আরো বলেন গলায় ফাস দিলে গলায় দাগ পড়ে যাবে কিন্তু নিহতের গলায় কোনো দাগ নেই। তার চুল গুলো এলোমেলো তাকে যে মারা হয়েছে এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।

নিহতের বাবা ও স্বজনরা লৌহজং থানায় হাজির হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলে থানার ওসি মামলা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,কেনো? পুলিশ মামলা নিতে অনাগ্রহী,।

এ বিষয় লৌহজং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমরা অভিযোগ নিয়েছি কিন্তু তারা তো ৫/৬ জনকে আসামি করেছেন। এ বিষয়ে থানার তদন্ত জানান তারা মামলা দিতে আমাদের কাছে আসে নাই। বাদি না হলে আমরা মামলা নিবো কি করে? কিন্তু নিহতের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলতেছেন আমরা নিজেরাই কালকে নিহতের বাবার সাথে থানায় গেছি মামলা দিতে কিন্তু থানায় অসি ছিলো না তদন্ত অফিসার বলছেন ময়নাতদন্ত ছারা আমরা মামলা লিখতে পারবো না।