11:44 am, Thursday, 15 January 2026

ক্ষমতার দাপটে মুগদায় ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন: ‘ভরসা হাউজিং’-এর অনিয়ম যেন দেখার কেউ নেই

দিগন্ত প্রতিদিন

1767715818834

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মুগদা থানাধীন মানিকনগর এলাকায় আবাসন ব্যবসার নামে চরম অনিয়ম ও রাজউকের নকশা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ‘ভরসা হাউজিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভবন নির্মাণ আইনের তোয়াক্কাই না করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন ‘ভরসা নাছিরুন নেছা টাওয়ার’।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীর নাম ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন শেখ সাহেব আলী।

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে তিনি পুনরায় বীরদর্পে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পেশায় ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী সাহেব আলীর সাথে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের গভীর সখ্যতা রয়েছে বলে জানা যায়। যেকোনো আইনি জটিলতা তিনি অর্থের বিনিময়ে বা প্রভাব খাটিয়ে নিষ্পত্তি করেন বলে এলাকায় চাউর রয়েছে।

মানিকনগর পুকুরপাড় সংলগ্ন ৩৪/এ হোল্ডিংয়ে নির্মিত ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ভরসা নাছিরুন নেছা টাওয়ার’ ভবনটি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এর নির্মাণে রাজউকের আইনের কোনো প্রতিফলন নেই। সূত্রমতে, জমির অনুপাতে রাজউক থেকে ভবনটির মাত্র ৬ তলার অনুমোদন থাকলেও সেখানে ক্ষমতার জোরে ১০ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের চারিপাশে ৩০ শতাংশ জমি উন্মুক্ত রাখার নিয়ম থাকলেও ভবনটির ক্ষেত্রে তার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করা হয়নি। সবচেয়ে বড় অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে ভবনটির নিচতলায়। রাজউকের নকশায় আবাসিক ব্যবহারের কথা থাকলেও নিচতলায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে, যা ইমারত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাজউকের কর্মচারী বাশারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সাহেব আলী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ভবনটির ফ্ল্যাট বিক্রির কাজও শেষের দিকে। অল্প সময়ে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিলাসী ও অনৈতিক জীবনযাপনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভরসা হাউজিংয়ের কর্ণধার শেখ সাহেব আলী দম্ভের সাথে বলেন, “নিউজ করে কোনো লাভ হবে না। রাজউককে আমি ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” আবাসিক এলাকায় এমন ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা ভবনগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এসব অবৈধ স্থাপনা ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

সূত্রে জানা যায়, মানিকনগরে ভরষা হাউজিং এর ১২ থেকে ১৪ টা নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। রাজউক থেকে নামমাত্র নকশা অনুমোদন করিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। নকশা মানা তো দূরের কথা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়েননি। তারা এখন রাজউককে ম্যানেজের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছে বলে জানা যায়। তদবিরের মাধ্যম হিসেবে প্রথম সারির তালিকায় রয়েছেন জোন-৭/২ এর প্রধান ইমারত পরিদর্শক কামাল হোসেন। মানিকনগরে কামাল হোসেনের ৬ তলা বিশিষ্ট ২টি ভবন রয়েছে। রাজউক কর্মকর্তা হলেও নিজেই মানেননি ভবন নির্মাণ বিধি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামাল হোসেন রাজউকে চাকরি করার সুবাদে অত্র এলাকার বেশিরভাগ ভবনের নকশা অনুমোদনের দালালি করেন তিনি। নিজের দাপ্তরিক কাজের বাইরেও তিনি নকশা অনুমোদন ও অভিযান ঠেকানোর তদবির করে থাকেন। এ জন্য তার বাসার নিচ তলায় একটি অফিসও রয়েছে। মানিকনগর এলাকায় অভিযান বন্ধ থাকার অন্যতম কারণও কামাল হোসেন। ভবন মালিকরা তার কাছে গেলেই সমাধান মিলে যায়।

রাজউকের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই যদি উৎকোচের বিনিময়ে ভবন মালিকদের নিয়ম ভাঙার সাহসের যোগান দেন; তাহলে রাজধানী ঢাকার বুকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ ঠেকানোর সাধ্য আছে কার? চলবে.!

বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্ব!

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Update Time : 04:15:48 pm, Tuesday, 6 January 2026
136 Time View

ক্ষমতার দাপটে মুগদায় ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন: ‘ভরসা হাউজিং’-এর অনিয়ম যেন দেখার কেউ নেই

Update Time : 04:15:48 pm, Tuesday, 6 January 2026

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মুগদা থানাধীন মানিকনগর এলাকায় আবাসন ব্যবসার নামে চরম অনিয়ম ও রাজউকের নকশা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ‘ভরসা হাউজিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভবন নির্মাণ আইনের তোয়াক্কাই না করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন ‘ভরসা নাছিরুন নেছা টাওয়ার’।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীর নাম ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন শেখ সাহেব আলী।

গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে তিনি পুনরায় বীরদর্পে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পেশায় ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী সাহেব আলীর সাথে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের গভীর সখ্যতা রয়েছে বলে জানা যায়। যেকোনো আইনি জটিলতা তিনি অর্থের বিনিময়ে বা প্রভাব খাটিয়ে নিষ্পত্তি করেন বলে এলাকায় চাউর রয়েছে।

মানিকনগর পুকুরপাড় সংলগ্ন ৩৪/এ হোল্ডিংয়ে নির্মিত ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ভরসা নাছিরুন নেছা টাওয়ার’ ভবনটি জাঁকজমকপূর্ণ হলেও এর নির্মাণে রাজউকের আইনের কোনো প্রতিফলন নেই। সূত্রমতে, জমির অনুপাতে রাজউক থেকে ভবনটির মাত্র ৬ তলার অনুমোদন থাকলেও সেখানে ক্ষমতার জোরে ১০ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের চারিপাশে ৩০ শতাংশ জমি উন্মুক্ত রাখার নিয়ম থাকলেও ভবনটির ক্ষেত্রে তার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করা হয়নি। সবচেয়ে বড় অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে ভবনটির নিচতলায়। রাজউকের নকশায় আবাসিক ব্যবহারের কথা থাকলেও নিচতলায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে, যা ইমারত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাজউকের কর্মচারী বাশারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সাহেব আলী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ভবনটির ফ্ল্যাট বিক্রির কাজও শেষের দিকে। অল্প সময়ে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিলাসী ও অনৈতিক জীবনযাপনেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভরসা হাউজিংয়ের কর্ণধার শেখ সাহেব আলী দম্ভের সাথে বলেন, “নিউজ করে কোনো লাভ হবে না। রাজউককে আমি ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” আবাসিক এলাকায় এমন ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা ভবনগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এসব অবৈধ স্থাপনা ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

সূত্রে জানা যায়, মানিকনগরে ভরষা হাউজিং এর ১২ থেকে ১৪ টা নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। রাজউক থেকে নামমাত্র নকশা অনুমোদন করিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। নকশা মানা তো দূরের কথা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়েননি। তারা এখন রাজউককে ম্যানেজের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির শুরু করেছে বলে জানা যায়। তদবিরের মাধ্যম হিসেবে প্রথম সারির তালিকায় রয়েছেন জোন-৭/২ এর প্রধান ইমারত পরিদর্শক কামাল হোসেন। মানিকনগরে কামাল হোসেনের ৬ তলা বিশিষ্ট ২টি ভবন রয়েছে। রাজউক কর্মকর্তা হলেও নিজেই মানেননি ভবন নির্মাণ বিধি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামাল হোসেন রাজউকে চাকরি করার সুবাদে অত্র এলাকার বেশিরভাগ ভবনের নকশা অনুমোদনের দালালি করেন তিনি। নিজের দাপ্তরিক কাজের বাইরেও তিনি নকশা অনুমোদন ও অভিযান ঠেকানোর তদবির করে থাকেন। এ জন্য তার বাসার নিচ তলায় একটি অফিসও রয়েছে। মানিকনগর এলাকায় অভিযান বন্ধ থাকার অন্যতম কারণও কামাল হোসেন। ভবন মালিকরা তার কাছে গেলেই সমাধান মিলে যায়।

রাজউকের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই যদি উৎকোচের বিনিময়ে ভবন মালিকদের নিয়ম ভাঙার সাহসের যোগান দেন; তাহলে রাজধানী ঢাকার বুকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ ঠেকানোর সাধ্য আছে কার? চলবে.!

বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্ব!