
নিউজ ডেস্ক:
লৌহজং উপজেলার মাওয়া খানবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাঁশ ও ট্রাকে করে মাওয়া মাছের আড়তে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাছ নামালেই একদল চাঁদাবাজ মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে আগে থেকেই চাঁদাবাজির তথ্য ছিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে।
বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যায় খানবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে মাছের ড্রামকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে এমন একটি বার্তা পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদক।
সেখানে দেখা যায়, রাস্তার পাশে মাছের ড্রাম পড়ে আছে এবং নিকটবর্তী একটি চায়ের দোকানে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়েই ওই বিরোধ।
ঘটনাস্থলে থাকা মাছের ড্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করার পর টপ নিউজের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা কৌশলে স্থান ত্যাগ করে।
এ সময় মাছ নিতে আসা এক ভ্যানচালক চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে কথা বলেন। তিনি জানান, চাঁদা দাবির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে খানবাড়ি সড়কে মাছ নিয়ে আড়তে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে মাছের মালিক এসে চাঁদাবাজদের সঙ্গে দরকষাকষি শেষে চাঁদা পরিশোধ করলে তবেই মাছ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা আদায়ের সময় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। চাঁদা দেওয়ার পর তিনি তিন ড্রাম মাছ আড়তে পৌঁছে দিয়ে বাকি মাছ নিতে ফিরে এসেছিলেন।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খানবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই চাঁদাবাজি চলছে। তবে চাঁদাবাজদের ভয় ও ভীতিকর পরিবেশের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, শুরুতে প্রতি মাছের পেটি থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চললেও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
মাওয়া খানবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে চলমান এই চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ না হলে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও ব্যবসা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি অবিলম্বে অভিযান পরিচালনা করে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এই চাঁদাবাজি আরও বিস্তৃত হয়ে ভয়ংকর সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
যোগাযোগ: সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: রাসেল সরকার, অফিস: ৩৯/৩, মানিক নগর, পুকুর পাড়, মুগদা, ঢাকা - ১২০৩, ফোন: +৮৮০১৭২৬৯১৫৫২৪, +৮৮০১৯৭৬৯১৫৫২৪, ইমেইল: Sheikhmdraselbd@gmail.com, www.dailydigantapratidin.com
2025 © All rights reserved © দৈনিক দিগন্ত প্রতিদিন