5:02 am, Monday, 1 December 2025

লৌহজং ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ: তদন্তের দাবি

Screenshot 20251128 195305

 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ৪৬নং ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহার লাভলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় অভিভাবক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া সহ একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যম মহলে সমলোচনা হলেও তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দখিনা বিনিময়ে ম্যানেজ করে দীর্ঘ দিন থেকে একই স্কুলে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টি ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফুলকচি গ্রামের প্রয়াত ইমাম উদ্দিন আহমদ ব্যাপারীর ছেলে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ব্যাপারী ও আফতাব উদ্দিন আহমেদ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই প্রধান শিক্ষকের স্কুল সংলগ্ন বাড়ি থাকার সুযোগে প্রায় সময় স্কুলের ক্লাস ফাঁকি সহ অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ওই শিক্ষকের অন্যত্র বদলির দাবি করছে এলাকাবাসি।

যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও অভিভাবকরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। অভিযোগগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি, শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের বাথরুম পরিষ্কার করানো এবং দপ্তরীকে ব্যবহার করে ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে। এছাড়া, কয়েক বছর আগে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক উঠেছিল বলেও জানা যায়।

যদিও এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রমাণিত না হলেও বিদ্যালয়ের দপ্তরী মোঃ মামুন কর্তৃক ছাত্রদের ভুলের স্বীকারোক্তি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার প্রমাণ বিদ্যালয়ের মেসেঞ্জার গ্রুপে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকরা ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে লুৎফর নাহার লাভলীকে দ্রুত বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে, যার বাড়ি পাশের গ্রাম বাসুদিয়ায়। জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিপরীতে অভিভাবকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন এবং তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা যায়।

এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, এমন দয়সারা অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে সরেজমিন তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছে এলাকাবাসি। অভিযুক্ত ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহার লাভলীর মোবাইল নং বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চলবে.! (পর্ব-০১)

বিস্তারিত আসছে অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের (দ্বিতীয় পর্বে)।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Update Time : 01:56:44 pm, Friday, 28 November 2025
63 Time View

লৌহজং ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ: তদন্তের দাবি

Update Time : 01:56:44 pm, Friday, 28 November 2025

 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ৪৬নং ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহার লাভলীর বিরুদ্ধে স্থানীয় অভিভাবক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া সহ একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যম মহলে সমলোচনা হলেও তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দখিনা বিনিময়ে ম্যানেজ করে দীর্ঘ দিন থেকে একই স্কুলে কর্মরত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টি ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফুলকচি গ্রামের প্রয়াত ইমাম উদ্দিন আহমদ ব্যাপারীর ছেলে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ব্যাপারী ও আফতাব উদ্দিন আহমেদ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই প্রধান শিক্ষকের স্কুল সংলগ্ন বাড়ি থাকার সুযোগে প্রায় সময় স্কুলের ক্লাস ফাঁকি সহ অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ওই শিক্ষকের অন্যত্র বদলির দাবি করছে এলাকাবাসি।

যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও অভিভাবকরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। অভিযোগগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ দাবি, শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের বাথরুম পরিষ্কার করানো এবং দপ্তরীকে ব্যবহার করে ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে। এছাড়া, কয়েক বছর আগে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক উঠেছিল বলেও জানা যায়।

যদিও এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রমাণিত না হলেও বিদ্যালয়ের দপ্তরী মোঃ মামুন কর্তৃক ছাত্রদের ভুলের স্বীকারোক্তি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার প্রমাণ বিদ্যালয়ের মেসেঞ্জার গ্রুপে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকরা ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে লুৎফর নাহার লাভলীকে দ্রুত বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে, যার বাড়ি পাশের গ্রাম বাসুদিয়ায়। জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিপরীতে অভিভাবকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন এবং তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা যায়।

এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, এমন দয়সারা অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে সরেজমিন তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছে এলাকাবাসি। অভিযুক্ত ফুলকচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহার লাভলীর মোবাইল নং বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চলবে.! (পর্ব-০১)

বিস্তারিত আসছে অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের (দ্বিতীয় পর্বে)।